HSC ICT Suggestion & Note 2021- একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী (২য় পর্ব)



    অধ্যায়টি শুরু করার পূর্বে প্রথমেই বলে নিচ্ছি এখানে শুধু আমি প্রথম অধ্যায়ের টপিকগুলো নিয়ে আলোচনা করা করেছি। এটি কোন বই নয়।














    বায়োমেট্রিক্স:

    মানুষের শরীরবৃত্তীয় বা আচরণগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কোন ব্যক্তিকে শনাক্ত করার প্রক্রিয়ার নামই হচ্ছে বায়োমেট্রিক্স। বায়োমেট্রিক্স হলো বায়োলজিক্যাল ডেটা মাপা এবং বিশ্লেষণ করার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করা যায়। বর্তমানে সকল সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।




    বায়োমেট্রিক্সের সুবিধা: উচ্চ নিরাপত্তায় তথ্য সংরক্ষণ করা যায়, সহজেই কোন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়।

    মানুষের বৈশিষ্টের উপর ভিত্তি করে বায়োমেট্রিক্স ২ ধরনের হতে পারে:-

    ১। শরীরবৃত্তীয় বায়োমেট্রিক পদ্ধতি:

    ফিঙ্গারপ্রিন্ট: মানুষের আঙ্গুলের ছাপ সম্পূর্ণ ইউনিক এবং এটি আজীবন ইউনিক থাকে বলে সহজেই ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করা যায়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট কেউ চাইলেও ডুপ্লিকেট বা নকল করতে পারে না। ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারের দাম তুলনামূলক ভাবে কম হওয়ায় এটি সহজেই ব্যবহার করা যায়। বায়োমেট্রিক্সের পদ্ধতিগুলোর মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং কার্যকর পদ্ধতি।




    আইরিস: আইরিস হচ্ছে চোখের মণির চারপাশে বেষ্টিত রঙিন বলয়। আইরিস বিশ্লেষণের মাধ্যমে কম সময়ে ব্যক্তি শনাক্ত করা যায়।




    মুখমন্ডলের অববয়: মানুষের মুখের গঠন ও আকৃতির মাধ্যমে কোন একটি ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্তকরা সম্ভব।




    হ্যান্ড জিওমিট্রি: মানুষের হাতের গঠন, সাইজ ও আকৃতির মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে শনাক্ত করার প্রক্রিয়ার নাম হচ্ছে হ্যান্ড জিওমিট্রি।




    ডিএনএ পর্যবেক্ষণ: ডিএনএ টেস্টের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবহারিক পদ্ধতির নাম ডিএনএ ফিঙ্গার প্রিন্টিং। ডিএনএ টেস্ট করার জন্য জৈবিক নমুনা (যেমন: ব্যক্তির রক্ত, দাঁত, লালা, চুল ইত্যাদি) প্রয়োজন হয়।

    ২। আচরণগত বায়োমেট্রিক পদ্ধতি:

    কন্ঠস্বর: মাইক্রোফোনের সাহায্যে কন্ঠস্বর গ্রহণ করে পূর্বধারণকৃত কন্ঠস্বরের সাথে মিলিয়ে কোন ব্যক্তি শনাক্ত করা হয়।




    স্বাক্ষর: স্বক্ষরের মাধ্যমে ব্যক্তি শনাক্তকরণ একটি জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে লেখার সময় চাপ, লেখার গতি, ধরণ মিলিয়ে দেখা হয়।




    টাইপিং গতি: এ পদ্ধতিতে ব্যক্তিকে তার গোপন কোড টাইপ করানো হয়। টাইপ করার সময় টাইপিং স্পিড পূর্ব ধারণকৃত স্পিডের সাথে মিলিয়ে ব্যক্তি শনাক্ত করা হয়।









    বায়োইনফরমেট্রিক্স:






    বায়োইনফরম্যাটিক্স এমন একটি কৌশল যেখানে তথ্যবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রসায়ন এবং জৈব রসায়ন ব্যবহার করে জীববিজ্ঞানের সমস্যা সমূহ সমাধান করা হয়। এটি জৈবিক তথ্য পরিচালনায় কম্পিউটার প্রযুক্তির প্রয়োগ যেখানে জৈবিক তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করার জন্য কম্পিউটারের ব্যবহার করা হয়। সহজভাবে বলতে গেলে, জীব সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনার কাজে কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহারকে বায়োইনফরমেট্রিক্স বলে। বায়োইনফরম্যাটিক্সে ব্যবহৃত ডেটাসমূহ হলো ডিএনএ, জিন, অ্যামিনো এসিড, নিউক্লিক এসিড এবং বায়োইনফরমেট্রিক্সে অন্তর্ভুক্ত বিজ্ঞানসমূহ হলো জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার। তবে, এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রযুক্তি।

    বায়োইনফরমেট্রিক্স এর প্রয়োগ: জিন থেরাপি, ওষুধ তৈরি, মলিকিউলার মেডিসিন, প্রোটিনের মিথষ্ক্রিয়া।










    জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং:


    বংশগতিবস্তুর মাধ্যমে পিতামাতার বৈশিষ্ট্য তাদের ‌সন্তানদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়। বংশগতিবস্তুগুলো হল ক্রোমোসোম, জিন, ডিএনএ এবং আরএনএ। বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোসোম। মানবদেহে ২৩ জোড়া ক্রোমোসোম থাকে। আর ডিএনএ(DNA-Deoxyribonucleic Acid) ক্রোমোসোম এর প্রধান উপাদান। জীবের সব দৃশ্য এবং অদৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম হচ্ছে জিন। জীবের একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একটি জিন থাকে। আবার একটি জিন একাধিক বৈশিষ্ট্যও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

    এক কোষ থেকে সুনির্দিষ্ট জীন অন্য কোষে স্থাপন করার প্রক্রিয়াকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলে। অন্যভাবে বলা যায়, কাঙ্খিত নতুন একটি বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির জন্য জীবের ডিএনএ পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জিন প্রকৌশল বলে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট জিন অন্য কোষে স্থাপন করে কোষের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ একটি ডিএনএ অণুর কাঙ্খিত অংশ কেটে অন্য একটি ডিএনএ অণুতে প্রতিস্থাপন করার ফলে যে নতুন ডিএনএ অণুর সৃষ্টি হয় তাকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ বলে। আর রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরির প্রক্রিয়াকে জিন ক্লোনিং বলে।

    জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যবহার:

    ইনসুলিন তৈরি: রক্তে অতিরিক্ত সুগার থাকলে ইনসুলিন প্রয়োগে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করা হয়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে জীবের কোষ অন্য জীবে স্থানান্তর করে রিকম্বনিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে মানব দেহের জন্য ইনসুলিন তৈরি করা হয়।

    প্রাণি উন্নয়ন: গরুর দুধে আমিষের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য Protein C জিন স্থানান্তর করা হয়। এছাড়াও, মৎস্যের দৈহিক বৃদ্ধির জন্য জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়।

    শস্য উন্নয়ন: শস্যে ব্যাকটেরিয়ার জিন প্রবেশ করার মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকামাকড় প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে।






    ন্যানোটেকনোলজি:




    ন্যানো শব্দটি গ্রিক nanos শব্দ থেকে এসেছে যার অভিধানিক অর্থ হল dwarft কিন্তু এটি মাপের একক হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১০-৯ মিটারকে ন্যানোমিটার বলে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১ থেকে ১০০ ন্যানোমিটার আকৃতির কোন কিছু তৈরি করা এবং ব্যবহার করাকে ন্যানো টেকনোলজি বলে। ১ ন্যানোমিটার সমান ১,০০০,০০০,০০০ (১০০ কোটি) ভাগের এক ভাগ। ন্যানোটেকনোলজি হল পদার্থকে আণবিক পর্যায়ে পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ করার বিদ্যা। ন্যানোটেকনোলজি বা ন্যানোপ্রযুক্তিকে সংক্ষেপে ন্যানোটেক বলা হয়।

    ন্যানো টেকনোলজির ক্ষেত্র দুটি:-

    ১। টপ আপ (Top Down): টপডাউন পদ্ধতিতে কোন জিনিসকে কেটে ছোট করে তাকে নির্দিষ্ট আকার দেয়া হয়।

    ২। (Bottom Up): বটমআপ হল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকারের ছোট জিনিস দিয়ে বড় কোন জিনিস তৈরি করা।

    ন্যানো টেকনোলজি বা ন্যানো প্রযুক্তির ব্যবহারিক এর প্রয়োগ:

    হার্ডওয়্যার তৈরি: মোবাইল এবং কম্পিউটারের প্রসেসর, হার্ডডিস্ক তৈরি করার জন্য ন্যানোপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ন্যানোপ্রযুক্তির মাধ্যমে হার্ডডিস্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়।

    খাবারের গুনাগুন রক্ষা: ন্যানো টেকনোলজির মাধ্যমে খবারের গুনাগুন অটুট রাখা যায়। বিভিন্ন ধরনের খাবারের প্যাকেটিং এবং সঠিক স্বাদ রক্ষায় এ ন্যানোপ্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে।

    চিকিৎসা ক্ষেত্র: এ প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্যান্য স্বাস্থ্যকর কোষকে ক্ষতি না করে বাছাই করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলিতে আক্রমণ করতে সক্ষম হয়।

    ঔষধ তৈরি: অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ তৈরিতে ন্যানোপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

    পন্য সামগ্রী: ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন কাপড় তৈরি করা সম্ভব যা কুঁচকায় না, পাশাপাশি শক্তিশালী, হালকা এবং আরও টেকসই। মোটরসাইকেলের হেলমেট বা ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরি করতেও ন্যানোপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।






    তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের নৈতিকতা:






    ‌‌নৈতিকতা হল মানবিক আদর্শাবলীর একটি প্রণালী। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে আমাদের সকলেরই কিছু নৈতিকতা থাকা উচিত। ‘কম্পিউটার এথিকস ইন্সটিটিউট’ ১৯৯২ সালে এই বিষয়ে দশটি নির্দেশনা তৈরি করে। নির্দেশনা গুলো র‌্যামন সি. বারকুইন কম্পিউটার এথিকস সম্পর্কে তাঁর গবেষণা পত্রে উপস্থাপন করেছিলেন।

    এই নির্দেশনা দশটি হলো:-

    ১। কম্পিউটার ব্যবহার করে অন্যের ক্ষতি করা যাবে না।
    ২। কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্যের কাজের ব্যঘাত ঘটানো যাবে না।
    ৩। অন্য কম্পিউটারের ডেটার উপর নজরদারি করা যাবে না।
    ৪। কম্পিউটার ব্যবহার এর উদ্দেশ্য যেন কারো ডেটা চুরি না হয়।
    ৫। এটি ব্যবহার করে ভুয়া, বানোয়াট, বিদ্বেষপূর্ণ কোনো সংবাদ বা তথ্য ছড়ানো উচিত নয়। এটি আইনবিরোধী কার্যকলাপ।
    ৬। পেইড সফটওয়্যার ব্যবহার করা। কোনো ধরনের পাইরেসি বা কপি করা সফটওয়্যার ব্যবহার না করা।
    ৭। বিনা অনুমতিতে কারো রিসোর্স ব্যবহার না করা।
    ৮। কারোর রিসোর্স করা গবেষণা নিজের বলে চালিয়ে না দেওয়া।
    ৯। কম্পিউটার প্রোগামিং করতে চাইলে প্রথমে ভাবতে হবে সমাজের উপর এর প্রভাব কেমন হবে।
    ১০। কম্পিউটার ব্যবহার করে কারো সাথে যোগাযোগ করতে বা নিজের সহকর্মীদের সাথে সৌজন্যতা প্রকাশ করতে হবে। ‍

    কতিপয় কিছু কম্পিউটার ক্রাইম

    নৈতিকতার চরম ব্যত্যয় দেখা যায় তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উপকারী দিক থাকার পাশাপাশি বেশ কিছু অপকারী দিক রয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অনৈতিক ও বেআইনি কাজও সংগঠিত হয়ে থাকে। এই কাজগুলো নিষিদ্ধ এবং অনৈতিক কাজ বলে বিবেচিত:-




    হ্যাকিং(Hacking): অনুমতি ব্যতীত কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে কম্পিউটার ব্যবহার করা কিংবা কম্পিউটারকে তার নিয়ন্ত্রনে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে হ্যাকিং বলে। যারা হ্যাক করেন তাদের হ্যাকার বলা হয়।




    ফিশিং(Phishing): প্রতারণার মাধ্যমে কারো কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করাকে ফিশিং বলে। এটা অনেকটা টোপ দিয়ে মাছ ধরার মত।




    প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism): অন্যের গবেষণা, সাহিত্য এবং আইডিয়া হুবহু নকল বা সামান্য পরিবর্তন করে নিজের নামে প্রকাশ করার প্রক্রিয়াকে প্লেজিয়ারিজম বলে।




    স্প্যামিং(Spamming): অনাকাঙ্খিত কোনো বার্তা ইমেইল বা অন্য মাধ্যমে কারো কাছে প্রেরণ করার নাম স্প্যামিং।




    সফটওয়্যার পাইরেসি (Software Piracy): সফটওয়্যার পাইরেসি হচ্ছে প্রস্তুতকারীর অনুমতি ব্যতীত কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করা, কপি করা কিংবা বিতরণ করা।




    ভাইরাস (Virus) : ভাইরাস হলো এক ধরনের ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম যা কম্পিউটারের রিসোর্সসমূহকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। VIRUS এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Vital Information Resources Under শেইযে






    Post a Comment

    Previous Post Next Post